মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়: দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন সালমা বেগম। হোটেলে কাজ করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চলে তাঁর সংসার। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে জীবনের কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই করে দিতে এগিয়ে এসেছে মানবিক সংগঠন ‘মানবিক পরিবার’।

পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগমের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সংগঠনটি। দীর্ঘদিনের ভাড়াবাসার জীবন পেরিয়ে এবার নিজের একটি ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে তাঁর।
জানা গেছে, ‘মানবিক পরিবার’ নামের এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রত্না আক্তার। ১৮ সদস্যের এই টিম দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ শিশু ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং মানুষের কাছ থেকে ১০-২০ টাকা করে ছোট ছোট অনুদান সংগ্রহ করে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

এ ছাড়া সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমে নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন মলি চা ফ্যাক্টরির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু। তাঁর মতো সহযোগীদের আর্থিক সহায়তা সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার অসহায় সালমা বেগমের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ‘মানবিক পরিবার’। ঘরটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটির উদ্বোধন করা হবে।

সালমা বেগমের কাছে এই ঘর শুধু একটি বসতঘর নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ভাড়াবাসার জীবন থেকে মুক্তির নতুন আশ্রয়। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে নিজের ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে তাঁর।
ছোট ছোট অনুদান, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা যে একজন অসহায় পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, ‘মানবিক পরিবার’-এর এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ।

মানবিক পরিবারের এমন উদ্যোগ সমাজের অন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Leave a Reply